ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​চেক ডিজঅনার মামলায় মূল লক্ষ্য অর্থ আদায়, কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ০২:০২:৪৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ০২:০২:৪৭ অপরাহ্ন
​চেক ডিজঅনার মামলায় মূল লক্ষ্য অর্থ আদায়, কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট ​ফাইল ছবি
চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে দায়ের করা মামলার প্রধান উদ্দেশ্য হলো চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, আসামিকে কারাদণ্ড দেওয়া নয় বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড কেবল বিশেষ ও উপযুক্ত পরিস্থিতিতেই দেওয়া উচিত।

বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন। গত ২২ জুলাই রায় ঘোষণা করা হলেও বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এর পূর্ণাঙ্গ লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখা হলেও আসামির ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করা হয়েছে।

আসামিপক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মো. সাইফুল আলম। ঋণদাতার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেব দুলাল বড়াল। রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সফিকুল ইসলাম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আবেদীন, হেমায়েত উদ্দিন ও কে এম সাইফুল ইসলাম।

রায়ে হাইকোর্ট ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কারাদণ্ড একটি কঠোর শাস্তি, যা কোনো শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কার্যকর নয়। এ বিষয়ে আগের সেই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার জন্য মো. আলাউদ্দিন বাদীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি রূপালী ব্যাংকের একটি চেক দেন। তবে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও অর্থ পরিশোধ না করায় একই বছরের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করা হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি ওই আদালত আলাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালত ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর আলাউদ্দিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।

রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত এবং অর্থদণ্ড বহাল রাখলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে কারাদণ্ডের অংশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও জরিমানার অর্থ পরিশোধের দায় থেকে তিনি মুক্ত হবেন না। বকেয়া অর্থ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদায় করা হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ